একে একে সব মেরেছিস্‌

  • তাল : -

একে একে সব মেরেছিস্‌

‘জাতের জাঁতিকল’

একে একে সব মেরেছিস্‌, জাতটা শুধু ছিল বাকি।
টিকি ধ’রে টানিস তোরা, তারেও এবার মারবি নাকি॥
ভাতের হাঁড়ি হুকোর জলে, কোনোরূপে শাস্ত্র-বুড়ো,
জাত বাঁচিয়ে লুকিয়ে আছে, তারেও বাবা দিস্‌নে হুড়ো!
এক কোণে সে প’ড়ে আছে ছোঁওয়া ছুঁয়ির কাঁথা ঢাকি’॥
জবু-থবু জাতকে নিয়ে এ তো দেখি বিষম ল্যাঠা;
পথ চলতে গেলেই দেখি শূদ্রে-অজাত-বেজাত ঠ্যাঁটা’
মেথর-চাঁড়াল-ডোম-হাড়ি সব মাল নিয়ে যায় কাঁচি পাকি॥
গরুর গাড়ি চড়তে গিয়ে দেখি শূদ্র চালায় গাড়ি,
হুঁকোতে টান দিতে গিয়ে জল ফেলে দিই তাড়াতাড়ি।
রেলগাড়িতে বামন শূদ্রে মাছে শাকে মাখামাখি॥
মেথরানীটা বললে, ‘বাবু, জাত জান কি তোমার মায়ের?
পাঁচ ছেলের সে ময়লা ফেলে, আমি ফেলি লক্ষ ছেলের।
স্নান ক’রে সে ঠাকুর পূজে, আমার বেলায় জাতের ফাঁকি॥
ছোঁওয়া-ছুঁয়ি বাঁচিয়ে বাঁচি ভূ-ভারতে কেমন ক’রে,
অ-ব্রাহ্মণ স্লেচ্ছ চাঁড়াল আষ্টে পিষ্টে আছে ভ’রে,
এমন ক’রে ক’দিন চালাই জাতের ছেঁড়া কাপড় টাকি’॥